সালিশ বৈঠকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ বাবাকে

সালিশ বৈঠকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ বাবাকে,নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় পারিবারিক বিরোধের সালিশে ৭০ বছর বয়সী বাবাকে তার ছেলের (৩৮) কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সালিশদাররা। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (২২ মে) ভুক্তভোগী বাবা মালাম ব্যাপারী  অভিযোগ করে বলেন, ‘সালিশদারদের এ বিচার আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

 

সালিশ বৈঠকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ বাবাকে

 

সালিশ বৈঠকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ বাবাকে

এরআগে গত ১২ মে বিকেলে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে নুরুল আলম তার কোনো খোঁজখবর রাখেন না। তিনি বাবা মালাম ব্যাপারীর অনেকগুলো সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে কিছু বললে মারতে আসেন। পারিবারিক বিরোধ বাধে। এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

কিন্তু ছেলের অভিযোগে সালিশদাররা মালাম ব্যাপারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেলের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। তা নাহলে বেত্রাঘাত করার হুমকি দেন তারা।মালাম ব্যাপারীর ছোট ছেলে খুরশিদ আলমবলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে বাবার পারিবারিক বিরোধ হয়েছে। সেই সালিশে বাবাকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া কোনোভাবেই সালিশদারদের উচিত হয়নি। কারণ আমরাও বাবা হয়েছি। ভবিষ্যতে সন্তানদের কাছে আমরাও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারি।

 

আমি এর সঠিক বিচার চাই।’সালিশে উপস্থিত সাবেক মেম্বার আবুল কাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উভয়পক্ষের সালিশদারদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। বিষয়টি বেমানান বিধায় পরে ছেলেই বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে। গ্রামের নব্য মাতব্বররা টাকার বিনিময়ে এর চেয়েও জঘন্য কাণ্ড ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।জানতে চাইলে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আমিন সালিশ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

সালিশ বৈঠকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ বাবাকে

 

তিনি বলেন, ‘আমি পরিষদের চাল বিতরণে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।’ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পরে মেম্বারসহ সালিশদারদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বিষয়টি ঠিক করেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছি।’এ বিষয়ে জানতে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়সার খসরুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তবে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি কেউ থানায় জানাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Comment