নিহত সেনাসদস্য আলতাফের মা বোনকে দেখার কেউ রইল না,‘মাসুম রে, তুই মায়ের বুক খালি কইরা কই গেলি রে। আমার মাসুম প্রাণের মাসুম, তুই কেন্নেরে আমারে ছেড়ে চলে গেলি রে। তোর বোন, আর আমারে কে দেইখা রাখবে রে?’বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য আলতাফ হোসেন ওরফে মাসুমের মা শাহীনুর আখতার ওরফে রেখা এভাবে বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বুধবার রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে এমন শোকাবহ দৃশ্য দেখা গেছে।

নিহত সেনাসদস্য আলতাফের মা বোনকে দেখার কেউ রইল না
নিহত আলতাফ হোসেন ওই বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। বাড়িতে তাঁর এইচএসসি পাস করা একমাত্র বোন সানজিদা সুলতানা ওরফে মীম ও মা থাকেন। আলতাফ হোসেনের মৃত্যুতে তাঁদের দেখার আর কেউ রইল না।বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) সন্ত্রাসীদের বোমা (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস—আইইডি) বিস্ফোরণ ও অতর্কিত গুলিতে সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক নিহত ও দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে এ
ঘটনা ঘটে। বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে নিহত আলতাফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা বাড়ির সামনের কবরস্থানে কবর খুঁড়ে রেখেছেন। এর পাশে বাঁশের টুকরা সারি করে রাখা। বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়।কাঁদতে কাঁদতে আলতাফ হোসেনের মা শাহীনুর আখতারকান্নাজড়িত কণ্ঠে জহির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাঁর ভাগনের সহকর্মীরা মুঠোফোনে
খবরটি জানিয়েছেন। এর পর থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। কী বলে বোনকে সান্ত্বনা দেবেন, কে ভাগনির বিয়ে দেবে, কে পরিবারটির হাল ধরবে—বুঝতে পারছেন না।স্বজনেরা জানিয়েছেন, আলতাফ হোসেনের লাশ গ্রহণ করতে বান্দরবান গেছেন তাঁর আরেক মামা মো. জসিম উদ্দিন এবং মামার বন্ধু শিপন। তাঁদের বৃহস্পতিবার সকালে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা। এরপর দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হবে।বলেন, গত ঈদের কয়েক দিন আগে ১৫ দিনের
ছুটিতে তাঁর ছেলে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষ করার আগেই কর্মস্থল থেকে কল আসায় বান্দরবানে ফিরে যান। তিন দিন আগে ছেলের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়েছিল মুঠোফোনে। তখন জানান, বড় একটা অপারেশন আছে। মুঠোফোন বন্ধ থাকবে। ‘বাবার সেই ফোন আর খোলেনি’, বলতে বলতে মূর্ছা যান শাহীনুর আখতার।মাসুমের মামা জহির উদ্দিন ওরফে শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৭ সালে তাঁর ভগ্নিপতি ডেকারেটর ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মারা যান। এর পর থেকে তিনিই

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি দেখাশোনা করছেন। ২০১৯ সালে তাঁর ভাগনে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। তাঁর আয়েই পরিবারটি চলত। ভাগনের মৃত্যুতে পরিবারটিকে দেখার আর কেউ রইল না।
৫ thoughts on “নিহত সেনাসদস্য আলতাফের মা বোনকে দেখার কেউ রইল না”