কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা | নোয়াখালী জেলা | চট্টগ্রাম বিভাগ | বাংলাদেশ

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আয়তন: ৩০৫.৩৩ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২২°৩৭´ থেকে ২২°৫৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°১০´ থেকে ৯১°৩১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে সেনবাগ ও দাগনভুঁইয়া উপজেলা, দক্ষিণে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর ও সন্দ্বীপ উপজেলা, পূর্বে সোনাগাজী এবং মিরসরাই উপজেলা, পশ্চিমে নোয়াখালী সদর ও কবিরহাট উপজেলা।

জনসংখ্যা ২১৪৬৫২; পুরুষ ১০৭৩০০, মহিলা ১০৭৩৫২। মুসলিম ২০০৭২১, হিন্দু ১৩৯১৬ এবং অন্যান্য ১৫।

 

জলাশয় ছোট ফেনী নদী ও সন্দ্বীপ চ্যানেল।

প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ থানা গঠিত হয় ১৮৮৮ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ২ জুলাই ১৯৮৩ সালে।

তথ্যঃ

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা | নোয়াখালী জেলা | চট্টগ্রাম বিভাগ | বাংলাদেশ

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১,

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ কালীমুর্তি (অষ্টাদশ শতাব্দি), মুগল আমলের ঈদাগাজী মসজিদ (চর হাজারি)।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাঞ্ছারাম রোডের স্লুইসগেটের পূর্বপাশে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই হয়। উক্ত লড়াইয়ে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাছাড়াও পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি খন্ড লড়াই হয়। এ সকল লড়াইয়ে সদর বিএলএফ কমান্ডার অহিদুর রহমান অদুদসহ ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ১ (কোম্পানীগঞ্জের ১৬নং স্লুইসগেইট)।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২৪২, মন্দির ১০। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: বুড়ি মসজিদ (বসুরহাট), জগন্নাথবাড়ি মন্দির (চর হাজারি)।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৯.৬৪%; পুরুষ ৫১.৮৭%, মহিলা ৪৭.৪৭%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বসুরহাট এ এইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১১), বামনী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), বসুরহাট ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (১৯২৩), বামনী আছিরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (১৯১৫)।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী অনিয়মিত সাপ্তাহিক: নোয়াখালী কণ্ঠ এবং আজকের যোগাযোগ।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ২২,  লাইব্রেরি ৬,  সিনেমা হল ১, খেলার মাঠ ২৬।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৩৭.৮১%, অকৃষি শ্রমিক ৩.১৬%, শিল্প ০.৭৯%, ব্যবসা ১৩.৮৬%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৪.০৩%, চাকরি ২১.৮১%, নির্মাণ ১.০৯%, ধর্মীয় সেবা ০.৩৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৭.৫৯% এবং অন্যান্য ৯.৫০%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৭.২৪%, ভূমিহীন ৪২.৭৬%। শহরে ৬০.৬৫% এবং গ্রামে ৫৬.৮৭% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, আলু, আখ, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি পাট, চীনাবাদাম, তিল, তিসি, সরিষা, ডাল।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, নারিকেল, বরই, কালো জাম।

মৎস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার  মৎস্য ১৬, হ্যাচারি ১, গবাদিপশু ১৬৭, হাঁস-মুরগি ১৩৯।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পালকি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা ময়দা কল, তেল কল, বরফ কল, ওয়েল্ডিং, বিড়ি কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, বুননশিল্প, চারু ও কারুশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ, কাঠের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ১৮। বসুরহাট, তাল মোহাম্মদ হাট, আবু মাঝির হাট, তালেব মোহাম্মদের হাট, চৌধুরী বাজার, বাংলাবাজার ও নতুন বাজার এবং ১ মাঘে অনুষ্ঠিত নলদিয়া মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  ধান, নারিকেল, কলা, কুমড়া, সুপারি, শাকসবজি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৩২.৯৩% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৭৭.৭৫%, ট্যাপ ৫.০৯%, পুকুর ১১.৩৪% এবং অন্যান্য উৎস ৫.৮৩%। এ উপজেলার অগভীর নলকূপের পানিতে সহনীয়মাত্রার আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা উপজেলার ৪৯.৭৮% (গ্রামে ৪৬.১৮% ও শহরে ৮৩.৩২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৩৫.৪৫% (গ্রামে ৩৮.১০% ও শহরে ১০.৭৬%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১৪.৭৭% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র ৭, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, ক্লিনিক ২০, বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতি ১।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ  ১৮৭৬ সালের ৩১ অক্টোবর এবং ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার বহুসংখ্যক  লোকের প্রাণহানির ঘটনাসহ গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা | নোয়াখালী জেলা | চট্টগ্রাম বিভাগ | বাংলাদেশ

Leave a Comment