কবিরহাট উপজেলা (নোয়াখালী জেলা) আয়তন: ১৮৯.৯৪ বর্গ কিলোমিটার। অবস্থান: ২২°৪৪´ থেকে ২২°৫৩´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°০৮´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলা, দক্ষিণে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে নোয়াখালী সদর উপজেলা ।
জনসংখ্যা ১৬৭২৭০; পুরুষ ৮৩৩৬৩, মহিলা ৮৩৯০৭।
জলাশয় নোয়াখালী খাল।
প্রশাসন ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট নোয়াখালী সদর উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে কবিরহাট উপজেলা সৃষ্টি করা হয়েছে।
তথ্যঃ

কবিরহাট উপজেলা আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১,
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ মুগল আমলের কবির পাটোয়ারী জামে মসজিদ (ঘোষবাগ গ্রাম), তিন গম্বুজ বিশিষ্ট হৈয়া মিয়া মসজিদ ও ছনখোলা দরবেশের (র.) মাযার (নরোত্তমপুর ইউনিয়ন)।
মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকাররা তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনী ও রাজাকাররা কোম্পানিরহাট এলাকায় এবং ঘোষবাগ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বহু ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতন করে। ১৭ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার জলিলের বাড়িতে হামলা করলে জলিলসহ তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ১ (কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের ডোবা)।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৫৫.৮৩%; পুরুষ ৫৮.৭৬%, মহিলা ৫২.৯১%। কলেজ ২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৭, মাদ্রাসা ৮। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কবিরহাট সরকারি কলেজ (১৯৬৭), চাপরাশির হাট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৩), কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৮), চাপরাশির হাট মাদ্রাসা (১৯০১), কবিরহাট মাদ্রাসা (১৯০৫)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ১।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, ডাল, শাকসবজি।
প্রধান ফল-ফলাদিব আম, জাম, তাল, খেজুর, নারিকেল, সুপারি।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৭৬ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৯৮ কিমি।
হাটবাজার ও মেলা’ হাটবাজার ২০। চাপরাশির হাট, কবির হাট, কালীর হাট, ভূঞার হাট, মিয়ার হাট এবং করম বাজার উল্লেখযোগ্য।
পানীয়জলের উৎস এ উপজেলার অগভীর নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ১, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৯।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর এবং ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘুর্ণিঝড় ও বন্যায় উপজেলার ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।